Register Now

Login


Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Login


Register Now

Welcome to Our Site. Please register to get amazing features .

জেনে রাখুন কিভাবে আপনার ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড স্কিমিং থেকে রক্ষা করবেন

বর্তমানে বেশ আলোচিত ও সমালোচিত একটি বিষয় হলো ATM কার্ড স্কিমিং। আমাদের অধিকাংশই জানি না যে ATM কার্ড স্কিমিং আসলে কি! আজ আলোচনা করবো ATM স্কিমিং কি? আর এই ATM স্কিমিং হয় কিভাবে সেই সম্পর্কে।

ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নিয়ে ঘুরছেন? এটিএম থেকে আরামে টাকা তুলছেন? কিংবা দোকানে খেয়ে দেয়ে বা জিনিস কিনে কার্ডে দাম দিচ্ছেন? সাবধান!!!
অভিনব কায়দায় আপনার কার্ড এবং টাকা পয়সা লোপাট করতে মাঠে নেমেছে সাইবার ক্রিমিনালরা!! এবং বাংলাদেশেও তারা হাজির। সাবধান!! বাংলাদেশে সাইবারক্রাইম খুব জোরেসোরে শুরু হবে, বছর দুয়েক আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম। এটাও বলেছিলাম যে, সরকারি নানা সংস্থা এসব সাইবারক্রাইমের ব্যাপারে একেবারেই প্রস্তুত না। এমনকি সরকারি পর্যায়ে ওয়েবসাইট ডিফেস করা ছিঁচকে লোকজনকে ধন্য ধন্য করা হয়, আর অন্যদিকে ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়। আমার আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করে সম্প্রতি দেশে ডেবিট কার্ড স্কিমিং জালিয়াতির বড় বেশ কিছু ঘটনা শুরু হয়েছে।

এবং এক বিদেশি প্রতারক ধরা পড়লেও শান্তিতে থাকার কিছু নাই। এভাবে সহজে পয়সা কামানো যায় সেই ব্যাপারটা আরো অনেক চোর-বাটপারের নজরে এসে গেছে, কাজেই এই ঘটনা ঘটবেই। ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড স্কিমিং কাকে বলে? ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের পিছনে একটা ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ থাকে কালো বা খয়েরি রংয়ের। সেখানে কার্ডের নম্বর থেকে শুরু করে অন্যান্য তথ্য ভরা থাকে। আপনি যখন এটিএম এ কার্ড ঢোকান কিংবা দোকানে সোয়াইপ করেন, তখন কার্ড রিডার সেই স্ট্রিপ থেকে কার্ডের তথ্য পায়।

এই তথ্যটুকু যদি কারো হাতে চলে যায়, সে কিন্তু চাইলেই আপনার কার্ডের একটা ক্লোন বা কপি বানিয়ে ফেলতে পারবে, তার পর সেটা দিয়ে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডে চার্জ করতে পারবে। অপরাধীরা এই সুযোগটাই নেয়। এটিএম এর কার্ড ঢোকানোর জায়গাটায় তারা অতিরিক্ত একটা যন্ত্রাংশ লাগিয়ে দেয়। সেটার কাজ হলো কার্ড ঢোকার সময়ে মেশিনে ঢোকার আগে আগে কার্ডের ম্যাগনেটিক স্ট্রিপটা পড়ে নেওয়া, আর সেই তথ্য অপরাধীর কাছে পাঠানো। এই যন্ত্রটাকে বলা হয় স্কিমার (skimmer)। আবার অনেক সময়ে পোর্টেবল স্কিমার পাওয়া যায়।

রেস্টুরেন্টে খেয়ে ওয়েটারের হাতে কার্ড দিলে আড়ালে গিয়ে এক সেকেণ্ডের মধ্যেই কিন্তু আপনার কার্ড স্কিমার দিয়ে কপি করে নিতে পারে। এর পর কার্ডের তথ্যগুলাকে ব্ল্যাংক একটা কার্ডে ঢোকানো হয়, ফলে সেটা কার্যত আপনার কার্ডের কপি হয়ে যায়। ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে পিন সংখ্যাটি পেতে হলে আরেক ধাপ বেশি করতে হয়, অনেক সময়ে এটিএম এর কি-বোর্ডের ওপর আলগা নকল কি-বোর্ড লাগানো হয়। অথবা কি-বোর্ডের জায়গাটা দেখা যায় এভাবে একটা গোপন ক্যামেরা বসিয়ে যায় অপরাধীরা। সেভাবেই আপনার পিন সংখ্যাটি পড়ে ফেলতে পারে।

স্কিমিংয়ের প্রতারণাটি পশ্চিমা দুনিয়াতে বহুদিন ধরেই হয়ে আসছে। আপনি একটু সাবধান থাকলে এটা এড়াতে পারেন। যেমন : এটিএম বুথে কার্ড ঢোকাবার আগে দেখে নিন, কার্ড ঢোকানোর জায়গাটা কি আলগা বা আলাদা লাগছে নাকি। সেটা কি অস্বাভাবিক বা বেঢপ ধরনের, মনে হচ্ছে কি এটা পরে লাগানো হয়েছে? দরকার হলে হালকা টান দিয়ে দেখেন ওটা আলগা নাকি। পিন এন্টার করার সময়ে কিবোর্ডটা আলগা নাকি দেখে নেন। পিন এন্টার করার সময়ে কোন কি চাপছেন সেটা অন্য হাত দিয়ে ঢেকে রাখেন। রেস্টুরেন্টে বা অন্যত্র ওয়েটারের হাতে নিশ্চিন্তে কার্ড দিয়ে ফেলবেন না।

সম্ভব হলে কাউন্টারে গিয়ে নিজের চোখের সামনে থাকা অবস্থায় বিল দেন। রেস্টুরেন্ট যত নামিদামিই হোক না কেন, বিশ্বাস করবেন না। (আমি ভুক্তভোগী। আমেরিকার এক নামকরা জায়গায় রেস্টুরেন্টের ওয়েটার আমার ক্রেডিট কার্ড কপি করে নিয়েছিল। ভাগ্য ভালো ক্রেডিট কার্ড কম্পানি সন্দেহজনক চার্জ দেখে আমাকে ফোন করেছিল।) স্কিমিং এখন বেশ লো-টেক সাইবারক্রাইম। তবে বাংলাদেশে এটা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষসহ কারো ধারণা নাই বলে পিটার নামের ওই বিদেশি প্রতারক তার সুযোগ নিয়েছে। এবার নামবে মাঠে দেশি প্রতারকেরাও। কাজেই সময় থাকতে সাবধান হন।

ATM স্কিমিং হচ্ছে বুঝবো কিভাবে?
আপনি যখন জেনেই গেছেন এটিএম স্কিমিং কিভাবে কাজ করে তাহলে আপনার কাছে এটা প্রতিরোধ করাটা খুব সহজ একটি কাজ। শুধু মনে করে প্রতিবার কার্ড ব্যবহারের আগে কিছু জিনিস লক্ষ্য করে দেখুন।
• মেশিনে এটিএম কার্ড প্রবেশ করানোর আগে কার্ড প্রবেশের জায়গাটিতে হালকা নাড়াচাড়া করে দেখে নিন সেটি খুলে আসছে কিনা, যদি খুলে আসে, তাহলে আপনি আসলে একটি স্কিমিং মেশিনে কার্ড প্রবেশ করাচ্ছেন!
• যেকোন মেশিনে কার্ড প্রবেশের সময় তা খুব মসৃণভাবে মেশিনে প্রবেশ করা উচিত। যদি কার্ড প্রবেশের সময় আপনি আটকে যাওয়ার অনুভূতি পান, তাহলে সতর্কতা অবলম্বন করুন।
• চাইলে আপনি নাম্বার প্লেটটি নেড়ে দেখতে পারেন সেটি আলগা কিনা।
• উপরের ক্যামেরাটি সাধারণত চোখে পড়ে না। আর তাছাড়া ক্যামেরা সবসময় উপরেই থাকবে এমন কথা নেই। বুথের যেকোন জায়গায় গোপন ক্যামেরাটি থাকতে পারে যা আপনার নাম্বার প্লেটে প্রবেশ করানো নাম্বার গুলো দেখতে পারবে। তাই, পিন নাম্বার প্রবেশের সময় শরীর এবং হাত দিয়ে পুরো জায়গাটি ঢেকে ফেলুন, যাতে কোন পাশের ক্যামেরাই আপনার পিনটি নোট করতে না পারে।

দিন দিন অপরাধীরা আরো শক্তিশালী হচ্ছে। সহজে ও অল্প দামে পাওয়া প্রযুক্তির কল্যাণে তারা যে কাউকে খুব সহজে বোকা বানাতে সক্ষম! আপনার সতর্কতা অনেক ক্ষেত্রেই আপনাকে রক্ষা করবে, এবং আপনার কষ্টের উপার্জন চুরি হওয়া ঠেকাবে। শুধুমাত্র ব্যাংক এর পক্ষে স্কিমিং এর মতো বিশাল ফাঁদ মোকাবেলা করা প্রায় অসম্ভব। যতো বেশী গ্রাহক স্কিমিং এর ব্যপারে সচেতন হবে, স্কিমারদের পাতানো ফাঁদ ততো বেশী দুর্বল হয়ে পড়বে। কোন বুথে উল্লেখিত কোন লক্ষণ দেখা মাত্র বুথের গার্ডের সাহায্য নিয়ে তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জানান। আপনার এই সামান্য উদ্যোগ হয়তো অনেক মানুষের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কামানো টাকা বাঁচিয়ে দেবে!

আর একটা কথা সবসময় মাথায় রাখুন, কোন এটিএম মেশিনে স্কিমিং এর কোন লক্ষণ না পাবার পরও যদি আপনার মনে খটকা থাকে, তাহলে সেই মেশিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। সকলের প্রচেষ্টায় স্কিমিং এর মতো একটি মারাত্মক অপরাধ প্রতিরোধ হোক।

সবাই ভাল থাকবেন

About Ask me anything


Follow Me

Leave a reply

Captcha Click on image to update the captcha .