Register Now

Login


Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Login


Register Now

Welcome to Our Site. Please register to get amazing features .

সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে ১০ টি জরুরি টিপস

সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে ১০ টি জরুরি টিপস

‘সাইবার নিরাপত্তা’ বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। সাইবার নিরাপত্তা বলতে মুলত বুঝায় কিছু সচেতনতা , কিছু উপায় যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য, কম্পিউটার, আমাদের বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ডিভাইসকে – হ্যাকিং ও বিভিন্ন ধরনের আক্রমন থেকে নিরাপদ রাখতে পারি। আমরা এখন পুরোপুরি নেটওয়ার্ক বেষ্টিত একটি পরিবেশে থাকি। ইন্টারনেট এক্সেস এখন সব কিছুতেই। এমনকি আমাদের স্মার্ট ডিভাইসটিও থাকে ইন্টারনেট জগতের সাথে সংযুক্ত। সাইবার নিরাপত্তা হল সব ধরনের সাইবার তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিভাইস এর নিরাপদ ব্যবহার, তথ্য কে চুরির হাত থেকে রক্ষা, বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার থেকে নিরাপদ থাকা। একটি মাউস ক্লিক সুগম করে দিতে পারে শক্তিশালী একটি ম্যালওয়্যার এর আগমন। সাইবার নিরাপত্তার হুমকি গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা থাকলে , এই জগতে নিরাপদ থাকা সহজ হবে।

সাইবার নিরাপত্তায় হুমকি সমুহঃ
সাইবার জগতের সবচেয়ে বড় হুমকি ধরা হয় বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যারকে। জানতে হবে ম্যালওয়্যার কি, কত ধরনের হতে পারে, কি দেখে ম্যালওয়্যার চেনা যাবে :
১। এড ওয়্যারঃ এড ওয়্যার কে সব চেয়ে কম ক্ষতিপূর্ন ম্যালওয়্যার ধরা হয়। এড ওয়্যার মূলত আপনাকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখাবে। ভাল না জেনে কোন সফটওয়্যার ইন্সটল কিংবা ব্রাউসার প্লাগিন ইন্সটল করার মাধ্যমে এড ওয়্যার ঢুকে পড়বে আপনার সিস্টেমে। তাই ট্রাস্টেড সোর্স ছাড়া সফটওয়্যার ও প্লাগিন ইন্সটল কখনই ঠিক নয়।
২। ভাইরাসঃ ভাইরাস এক ধরনের প্রোগ্রাম যা সাধারণত অন্য একটি সফটওয়্যার এর সাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে এবং পরবর্তীতে পুরো সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস বেশির ভাগ সময় সফটওয়্যার অথবা ফাইল শেয়ারিং এর মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে।
হোস্টিং একাউন্ট নিরাপদ রাখতে, ভাইরাস যুক্ত ফাইল কখনই আপনার একাউন্টে আপলোড করবেন না।
৩। র‍্যানসমওয়্যারঃ র‍্যানসমওয়্যার আপনার সিস্টেম লক করে দিবে এবং আনলক কোড এর জন্যে টাকা চাইবে। (বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত)
৪। ব্যাকডোরঃ ব্যাকডোর এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে একজন হ্যাকার কিংবা স্প্যামার আপনার নেটওয়ার্ক সংযোগ ব্যবহার করতে পারবে।
৫। কি লগারঃ কি লগারের কাজ হল কম্পিউটারে যা ই টাইপ করা হবে , ইউজার আই ডি, পাসওয়ার্ড অথবা যেকোনো স্পর্শকাতর তথ্য, সব কিছু রেকর্ড করবে এবং পরবর্তীতে কি লগারের প্রোগ্রামার কে পাঠিয়ে দিবে সব তথ্য।
৬। রুট কিটঃ এটি ভয়ানক ধরনের ম্যালওয়্যার । সহজে এটা ধরা যায় না। রুট কিট অন্য ম্যালওয়্যার কে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
৭। স্পাইওয়্যারঃ স্পাইওয়্যার মূলত আপনাকে স্পাই করবে। আপনার ইন্টারনেট এক্টিভিটিস থেকে শুরু করে সব কিছু।
৮। ট্রোজান হর্সঃ ট্রোজান এই সময়ের সব চেয়ে ভয়ঙ্কর ম্যালওয়্যার। এটা আপনার আর্থিক তথ্য চুরি করবে। আপনার সিস্টেমের রিসোর্স ব্যবহার করবে। ট্রোজান বড় কোন সিস্টেম হলেও, সিস্টেমকে ডাউন করে দিতে সক্ষম।
৯। ওর্মঃ ওর্ম এক ধরনের খাদক। ওর্ম এর খাবার হল আপনার প্রয়োজনীয় ফাইল। একটি ড্রাইভে যখন ওর্ম ঢুকে পড়বে, এটি আস্তে আস্তে ড্রাইভটি খালি করে ছাড়বে।
১০। আইডেন্টিটি থিভস / ফিশিং: অনেক সময় চমক প্রদ অফার দিয়ে ইমেল আসে আমাদের ব্যক্তিগত ইমেল একাউন্টে। ব্যাংক , পরিচিত কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধু এর নাম দেখেই আমরা মেইল খুলে বসি, ক্লিক দিয়ে দেই। ফিশিং ইমেল গুলো আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে। অপরিচিত / সন্দেহজনক ইমেল ওপেন করা ঝুঁকিপূর্ণ।
নাল্ড (ক্রেকড) ভার্সন এর ঝুঁকিঃ
ফ্রি থিম , ফ্রি সি এম এস প্লাগিন কিংবা প্রিমিয়াম থিম এর নাল্ড (ক্রেকড) ভার্সন পেলেই ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার কি মনে হয় একজন হ্যাকার নাল্ড (ক্রেকড) ভার্সন কোন স্বার্থ ছাড়াই দিচ্ছে? তার কি লাভ এতে? তার লাভ হল , নিজের কোন লুকানো শেল স্ক্রিপ্ট অথবা এমন কিছু ব্যাকডোর জাতিয় ম্যালওয়্যার নাল্ড (ক্রেকড) ভার্সনের সাথে দিয়ে দিচ্ছে যা দিয়ে সে পরবর্তীতে যেখানে এই সফটওয়্যার / থিম / প্লাগিন ইন্সটল থাকবে , সে সহজেই ঢুকে পড়তে পারে। আপনার ইন্টারনেট সংযোগ , রাউটার, কম্পিউটার , হোস্টিং একাউন্ট তখন হ্যাকার ব্যবহার করবে তার ইচ্ছা মত আপনার অজান্তে। বট নেট অ্যাটাক, স্প্যাম, হ্যাকিং (অন্য কোন নেটওয়ার্ক) এছাড়াও ভয়ানক অনেক কিছুতেই ব্যবহার হতে পারে আপনার সিস্টেম / নেটওয়ার্ক / হোস্টিং একাউন্ট। যার দায়ভার আপনাকেই নিতে হতে পারে।
অনেক সময় দেখা যায় আপনার হোস্টিং প্রোভাইডার আপনার একাউন্ট টি সাসপেন্ড করেছে, কারণ হিসাবে দেখিয়েছেন সেন্ডিং স্প্যাম ইমেইলস। আপনার একাউন্ট থেকে কয়েক লাখ স্প্যাম পাঠানো হয়েছে কিন্তু আপানি জানেন ই না। আপনি হয়ত তখন প্রোভাইডার কে দোষ দিচ্ছেন করছেন। তখন একটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। সিকিউরিটি সমস্যা বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় ওয়েব সাইটেরই। সার্ভার সমস্যা পাওয়া যায় খুব কম সময়ই। আপনার ওয়েব সাইটে যদি এস কিউ এল ইনজেকশন দেয়ার মত ব্যবস্থা আপনি খোলা রাখেন। কিংবা এমন একটি পেজ রেখেছেন যেখানে একটি গেট মেথড ($_GET) উউজ করা হয়েছে কিন্তু কোন ধরনের ভ্যালিডেশন নেই , ফিল্টারিং নেই। একজন হ্যাকার যখন গুগোলে ভালনারেবল সাইটের খোঁজ করে, আপনার সাইট চলে আসতে পারে সহজেই। তাই সব ধরনের ভালনারেবলিটি বন্ধ করে নিতে হবে ওয়েব সাইট সুরক্ষিত রাখতে হলে। যেখানে আপনি সুরক্ষিত ওয়েব সাইট কিংবা সিস্টেম এর চিন্তা করেন, সেখানে নাল্ড (ক্রেকড) কিছু ব্যবহারের কথা চিন্তাও করা যায় না।
সাইবার নিরাপত্তায় ১০ টি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়ঃ
১। আপনার অপারেটিং সিস্টেম আপ টু ডেট রাখুন।
২। অবশ্যই এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে। কখনই ক্র্যাক ভার্সন ব্যবহার করবেন না। আর্থিক সামর্থ না থাকলে ফ্রি ট্রায়াল ব্যবহার করুন । ( পরিচিত কোম্পানিগুলোর মাঝে পরিবর্তন করে করে ব্যবহার করতে পারেন)
৩। আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য অবশ্যই ব্যাকআপ রাখুন।
৪। ব্যক্তিগত তথ্য নেটওয়ার্ক সংযুক্ত যন্ত্রে না রাখাই ভাল।
৫। ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংকিং সহ সকল আর্থিক তথ্য কোথাও ইনপুট দেয়ার আগে কয়েকবার চেক করে নিন কোন ওয়েব সাইট এ দিচ্ছেন। পার্সোনাল ফায়ার ওয়াল থাকলে ভাল এক্ষেত্রে।
৬। যে কোনো ধরনের এড / বিজ্ঞাপন এ ক্লিক দিবেন না।
৭। অপরিচিত ইমেইল খুলবেন না। শুধু মাত্র ইমেইল ওপেন করার কারনেই আপনার তথ্য চলে যেতে পারে হ্যাকার এর কাছে।
৮। পাসওয়ার্ড ব্রাউজারে অটো সেইভ করে না রাখাই ভাল।
৯। ফাইল ফরমেট দেখেই ভাববেন না ওপেন করার কথা। যেমন ধরুন একটি পি ডি এফ ফাইল ওপেন করলেও আপনার নেটওয়ার্ক এ ম্যালওয়্যার ইন্সটল হয়ে যেতে পারে আপনার অজান্তে।
১০। সব শেষে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন হতে হবে অনেক বেশি। অনেক সময় দেখা যায় ধর্মীয় অথবা মানবিক আবেগ কে পুঁজি করে , জঙ্গি অথবা চরমপন্থি গোষ্ঠী আপনাকে ব্যবহার করছে আপনার অজান্তে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য।
শুধুমাত্র ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড আপনাকে সাইবার জগতে নিরাপদ রাখতে যথেষ্ট নয়। নিরাপদ থাকতে হলে তিনটি স্টেপ জরুরী। স্টপ – থিংক – কানেক্ট । একটু থামুন, কি করতে যাচ্ছেন একটু ভাবুন, এর পর যা করবেন তার উপর নির্ভর করছে আপনার সাইবার নিরাপত্তা। সাইবার জগতে নিজে নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকুন, সবাইকে নিরাপদ থাকতে দিন।
সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে ১০ টি জরুরি টিপস
  1. আপনার ইমেল এড্রেস, ক্রেডিট কার্ড নাম্বার, পাসপোর্ট নাম্বার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার, আইডি কার্ড নাম্বার, ড্রাইভিং লাইসেন্স নাম্বার ইত্যাদি শেয়ার থেকে বিরত থাকুন।
  2. আপনার সকল অ্যাকাউন্ট এর ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড একই না রেখে ভিন্ন ভিন্ন রাখেন। যাতে একটি  অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলেও সমস্ত  অ্যাকাউন্ট এক সাথে হ্যাক না হয়।
  3. অত্যন্ত ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার থেকে বিরত থাকুন।
  4. আপনার ব্যবসায়িক তথ্য লেন-দেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন।
  5. সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখবেন না।
  6. সোশ্যাল মিডিয়াতে অপনিন্দা এবং অপপ্রচার থেকে বিরত থাকুন।
  7. অপরিচিত ওয়েবসাইট ভিজিট এবং সেখান থেকে ফ্রী সফটওয়্যার ডাউনলোড থেকে বিরত থাকুন।
  8. ইন্টারনেটে ডকুমেন্ট শেয়ারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাছাইকৃত মানুষদের দেখার সুযোগ দিন।
  9. রেস্টুরেন্ট ও পাবলিক প্লেস গুলোতে পাবলিক ওয়াই-ফাই কানেক্ট হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  10. কোন ওয়েবসাইটে লগইন বা রেজিস্ট্রেশন করার সময় দেখে নিন সাইটটি সিকিউর কিনা অর্থাৎ HTTPS ব্যবহার করছে কিনা।

About Ask me anything


Follow Me

Leave a reply

Captcha Click on image to update the captcha .